Recent Post

অসুর মর্দন(৮ম পর্ব): জিৎ সরকার

(আগের পর্বটি পড়ুন)

ঋজুর এই কেউ কিচ্ছু বলবে না ব্যাপারটা কয়েক সেকেন্ড বোঝার চেষ্টা করল শ্রী, তারপর বলল দাড়া একটু শাড়ীটা পাল্টে আসছি। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে প্রথম কথা শ্রী বলল “ তুই তো আগে আমায় তুই বলছিস এখন তুমি করে বলছিস কেন?”, প্রত্তুতরে ঋজু বলল “আমাদের মধ্যে সম্পর্কের সুতোটা সময়ের সাথে সাথে অনেকটা আলগা হয়ে গেছে। আমরা হয়তো পরস্পরের অনেকটা অচেনা হয়ে গেছি এতগুলো বছরে তাই চেনা ডাকটা বাংকার জোর আর পাচ্ছি না”। উত্তর টা শুনে শ্রী এর মুখে একটা কৌতুকের হাসি উঁকি দিয়ে যায়, সে বলে,“ নট্ ব্যাড মিঃ সাইলেন্সার, বেশ ভালোই কথা শিখেছিস দেখছি”। ঋজুর মুখেও একটা হাসি খেলে যায় চকিতে, এবার সে প্রশ্ন করে “ এতগুলো বছরে একবারও তো ফেরোনি, হঠাৎ এখন ফিরলে যে?”, প্রশ্নটা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্রী বলে “ ফিরিনি কারন জানতাম ফেরার কোনো কারন নেই, অন্তত বাবা চলে যাওয়ার পর। যদিও বাবা আমায় পর করে দিয়েছিলেন। জানিস বাবা মরার খবরটা পেয়েছিলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে, ওর সাথে আমার যোগাযোগ এখনও আছে। তবে যতক্ষনে খবর পেয়েছি ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।তোরাও তো জানাসনি। তারপর থেকে আর ফেরার ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই একটা প্রোমোটার খুব চাইছে বাড়িটা, বলছে ভালো দাম পাওয়া যাবে।আমিও ভেবে দেখলাম আর রেখে কি হবে থাকছি তো না। তারপর আবার ভাবলাম

ছোটোবেলার , আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্তের এত স্মৃতি জড়িয়ে যেখানে একবার ফিরে দেখি যদি থাকার কোনো কারন পেয়ে যায় তবে এখন বুঝতে পারছি এসেই ভুল করেছি।এবার ভাবছি বেচেই দেব”। স্তব্ধ হয়ে কথা গুলো শুনছিল ঋজু , এবার বলল “থাকার কী কোনো কারনই নেই ?”, উত্তরে শ্রী বলল“ হয়তো নেই, হয়তো আছে, কিন্তু ওরা থাকতে দেবে না”, ফের আর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কতকটা আপনা থেকেই শ্রী বলে উঠলে “ জানিস বাড়ি ফিরে জিনিস ঘাটতে ঘাটতে আমার আঁকা পুরোনো ছবি গুলো পেলাম। মনে আছে তোর আমার ইচ্ছে ছিল একটা আর্ট অ্যাকাডেমি শুরু করবো, কিন্তু….আমি একটা চাকরি করি জানিস, একটা এসকর্ট সার্ভিসে। তোদের কাছে কাজটার অনেক রকম নাম থাকতেই পারে, আমার কাছে এটা চাকরি। তবে কারনটাও আমার কাছে খুবই স্পষ্ট । কলেজে যেটা ঘটেছিল সেটা একটা ভুল ছিল কিংবা নিষিদ্ধ কিছু উপভোগ করার নেশা একটা অ্যাডভেঞ্চার অন্তত তখন জিনিসটা নিষিদ্ধ বলেই জানতাম। তবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর টাকা ইনকামের সহজ উপায় এটাই মনে হয়েছিল, কি আর করা বল বাঁচতে তো হবে। আর তখন হঠাৎ করে কোথাও একটা চাকরি জোগাড় করবে এতটা সময় বা অবস্থা ছিল না। সেই শুরু এখনো চলছে।

(ক্রমশ)

Author

  • জিৎ সরকার

    নবতরু ই-পত্রিকার একদম জন্মলগ্ন থেকে নিয়মিত লেখালেখির সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তাঁদের মধ্যে লেখক জিৎ সরকার অন্যতম। ১৯৯৭ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এরপর বাল্যকাল এবং বড়ো হয়ে ওঠা নদীয়ার করিমপুরে। স্থানীয় করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে কৃষ্ণনাথ কলেজে জীববিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে করিমপুরেই থাকেন পেশায় ও নেশায় ছাত্র জিৎ সরকার। একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন লেখালেখির কাজও। জীববিদ্যাতে প্রথমশ্রেণিতে স্নাতক জিৎ সরকারের শখ প্রধানত লেখালেখি করা তছাড়াও বই পড়া, গান শোনা সিনেমা দেখা, রান্না করা, পুরোনো ইতিহাস ঘাটাঘাটি করা প্রভৃতিতেও উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। তাঁর লেখালেখির জীবন শুরু কবিতা দিয়ে। তারপরেও কিছু কবিতা লেখা হয়েছে। তার মধ্যে কিছু সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি কবিতা দুটি ওয়েব ম্যাগাজিনেও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি চলছে সমান তালে। এছাড়া ছবি আঁকা, ক্রিমিনোলজি সর্ম্পকে ধারনা প্রভৃতি বিষয়েও বিশেষ দক্ষ তিনি। তীক্ষ্ণ স্মৃতিধর জিৎ সরকারের লেখায় বুদ্ধিদীপ্তের ছাপ পরে লেখার পরতে পরতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আয়নাবন্দি: জিৎ সরকার (১/১২ পর্ব)
গদ্য- সাহিত্য গল্প ধারাবাহিক গল্প

আয়নাবন্দি: জিৎ সরকার

    গাড়িটা যখন বড়ো গেটের সামনে এসে দাঁড়াল তখন শেষ বিকেলের সূর্য পশ্চিমাকাশে রক্তাভা ছড়িয়ে সেদিনকার মতো সন্ধ্যেকে আলিঙ্গন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন
    অসুর মর্দন(একাদশ পর্ব): জিৎ সরকার
    গদ্য- সাহিত্য গল্প ধারাবাহিক গল্প

    অসুর মর্দন(একাদশ পর্ব): জিৎ সরকার

      ভিড়টা মোড়ের বাঁকে অদৃশ্য হতেই শ্রী ঘরের দিকে ফিরতে উদ্যত হল, হঠাৎ নীচের দরজায় আওয়াজ উঠল। বাধ্য হয়েই অভিমুখে বদলে শ্রী নীচে এসে দরজা খুলল। দেখল ঋজু দাঁড়িয়ে, মুখে একটা হাসি খেলছে। এই হাসিটা একদিন ফিরে এসে শ্রী কিন্তু লক্ষ্য করেনি

      বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন
      ধারাবাহিক গল্প

      অসুর মর্দন(১০ম পর্ব): জিৎ সরকার

        এতক্ষণে তমাল মুখের কঠিন রেখাগুলো অনেকটা সহজ হয়ে এসেছে, সে মৃদু হেসে বলে, “দ্যাখ পারব কি পারব না সেটা তো এখনি বলা যাচ্ছে না, তবে হ্যাঁ, একটা চেষ্টা করে দেখাই যাক, পরেরটা না-হয় পরেই বুঝে‌ নেব।

        বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন